আইটি

ই কমার্স ও ই কমার্স এর গুরুত্ব এবং সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত 

অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করাকেই ই কমার্স বুঝায়।  দারাজ, ইভ্যালি, রকমারি, চালডাল সহ বিভিন্ন রকম ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমরা দেখতে পাই।  ই-কমার্স ব্যবসার সবচাইতে বড় সুবিধা হল এই ব্যবসা আপনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে করতে পারবেন।  বাংলাদেশে এখন অনেকেই ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং সচ্ছলতা অর্জন করেছে।  

ই-কমার্স কি?

ই-কমার্স সম্পর্কে বলা হয়েছে, যে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম পণ্যের ব্যবসা করাকেই ই কমার্স বুঝায়।  এটা অনলাইন মাধ্যমে ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের পন্য বিক্রি হতে পারে যেমন ধরুন কেউ ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে তার পেজ খুলে অনলাইনে কোন পণ্য সামগ্রী বিক্রি করছে এটা এক ধরনের ই-কমার্স ব্যবসা।  ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করা এটাও ই-কমার্স।  

ই-কমার্স ব্যবসার বৈশিষ্ট্য

ই-কমার্সে বিক্রেতার পন্য তার ওয়েবসাইট বা তার সোশ্যাল মিডিয়াতে যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে প্রদর্শন করবে এবং ক্রেতা তা থেকে তার পণ্য বেছে বেছে নিবে। যেমন ধরুন আপনি কোনো দোকানে গেলেন সেখানে আপনি পণ্যটি কেনার আগে অবশ্যই পন্য টি দেখে নিবেন।  ই-কমার্স ব্যবসা তে সেই রকমভাবেই আপনি পণ্যটি কেনার আগে পন্য টি অনলাইনে দেখতে পারবেন।

প্রচলিত দোকানের সাথে ই-কমার্স এর পার্থক্য হচ্ছে প্রচলিত দোকানে পণ্য আপনি সামনাসামনি দেখতে পারবেন এবং ই-কমার্সে পণ্য আপনাকে দেখতে হবে অনলাইনে।  ই-কমার্স ব্যবসার আরো একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল ই-কমার্স ব্যবসার পেমেন্ট পদ্ধতি। ই-কমার্স ব্যবসায় আপনি পেমেন্ট পদ্ধতি অনলাইনে করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন রকম পদ্বতি যেমন বিকাশ, রকেট, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্যের দাম পরিশোধ করা যায় ই-কমার্স ব্যবসাতে।

ই-কমার্স এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য হল ডিজিটাল প্রোডাক্ট। ডিজিটাল প্রোডাক্ট হচ্ছে এমন ধরনের প্রোডাক্ট যার কোন অস্তিত্ব আমরা হাতে অনুভব করতে পারি না কিন্তু আমাদের জীবনে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন কম্পিউটারের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার কে বলা যায় ডিজিটাল প্রোডাক্ট। বিভিন্ন রকম কোর্স, অনলাইন গেমিং, ই বুক ইত্যাদিকে ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট বলা যায়। ডিজিটাল প্রোডাক্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে অনলাইন সবচাইতে ভাল মাধ্যম কারণ অনলাইনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল প্রোডাক্টের লেনদেন করা যায়। ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ই-কমার্স।

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা

অনলাইনে পরিসংখ্যান সংক্রান্ত বিখ্যাত ওয়েবসাইট statista এর এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশ ই কমার্স এর ব্যবসা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদন টি তে আরও বলা হয় যে, বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে 2023 সালের মধ্যে আশা করা যাচ্ছে।  করোনাভাইরাস এর মধ্যে সমস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ই কমার্স ব্যবসা কিন্তু খুব দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ই কমার্স এর মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসে তার পণ্য ডেলিভারি নিতে পেরেছে ফলে করোনাভাইরাস এর মাধ্যমে মানুষ বাইরে না যেয়েও তার প্রয়োজনীয় পন্য ঘরের মধ্যে ডেলিভারি নিতে পেরেছে। বাংলাদেশে ই কমার্স এর ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল।

দারাজ ইভ্যালি রকমারি সহ আমরা যদি বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফলো করে এবং তাদের বিক্রয় দেখি তবে দেখব যে তা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্থাৎ প্রতিবছর বাংলাদেশে অনেক মানুষ ই কমার্স প্লাটফর্মে আসছে এবং তারা পণ্য বেচাকেনা র সাথে যুক্ত হচ্ছে। তবে এই সংখ্যাটা আরো বেশি হওয়া দরকার।

বর্তমানে বাংলাদেশের খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ই কমার্স এর মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনা র সাথে যুক্ত আছে। বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষও যদি ই-কমার্স এর মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনা সাথে যুক্ত হয় তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর ই-কমার্স মার্কেট।

বাংলাদেশের ই-কমার্সের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং মানুষের ই-কমার্স ব্যবসার প্রতি আস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তবে বাংলাদেশে ই-কমার্স মার্কেট হয়ে উঠবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর ই-কমার্স মার্কেট।

ই-কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ই-কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব অপরিসীম। ই-কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে শুধু কমার্স এর মাধ্যমে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ এবং বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারে এবং তারা কর্মসংস্থান অর্জন করতে পারে।

পাশাপাশি ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। আমাদের সবচাইতে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয় গার্মেন্টস সেক্টর থেকে। গার্মেন্টস সেক্টরের মত যদি প্রণোদনা এবং সুযোগ-সুবিধা আর ট্রেনিং ইত্যাদি যদি ই কমার্স সেক্টরেও দেওয়া হয় তবে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ই কমার্স খাত থেকেও বাংলাদেশে খুবই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে এবং তা বাংলাদেশের জন্য একটি রপ্তানিমুখী শিল্প পরিণত হবে।

সুতরাং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য ই কমার্স সেক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ই-কমার্স সেক্টরের এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও ব্যবসা বাণিজ্য বিস্তার লাভ করা যেতে পারে। যেমন গত কয়েক বছর ধরেই প্রান্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের আম চাষিদের মধ্যে অনেকেই তাদের আড়তদারদের কাছে আম বিক্রি না করে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে যেমন ফেসবুক ইত্যাদি ব্যবহার করে তারা তাদের আম বিক্রি করছে। অনলাইন মাধ্যম যেমন ফেসবুক ব্যবহার করে তারা তাদের আম বিক্রি করছে।

ই-কমার্স খাত ব্যবহার করে এই ব্যবসায়ীরা তাদের আম বিক্রির মাধ্যমে একদিকে যেমন তাদের পণ্যের জন্য খুব ভালো দাম পাচ্ছে পাশাপাশি শহর অঞ্চলের মানুষ ফরমালিনমুক্ত খাটি আম খেতে পারছে। যদি ই কমার্সের সম্পর্কে মানুষকে আরো প্রশিক্ষণ এবং সচেতন করে তোলা যায় তা যথাযথ ভাবে পরিচালনা করার জন্য তবে একথা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে বাংলাদেশের ব্যবসার বিস্তারে, কর্মসংস্থানে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ই-কমার্স খাত বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করতে পারে।

ই-কমার্স এর জন্য ওয়েবসাইট তৈরি Thezoomit এর মাধ্যমে

কেউ কেউ বলতেই পারে যে, ফেসবুকের মাধ্যমেই তো ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা যায় তাহলে এইসব ওয়েবসাইট ডেভেলপ করার কি দরকার। কিন্তু ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা গেলেও এখানে আপনি ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীও অনেক কিছু করতে পারবেন না।

যেমন আপনার পছন্দ মত ফেসবুক পেজ ডিজাইন করা, বিভিন্ন বাটন এড করা বা পেমেন্ট সিস্টেম এড করা এসব আপনার ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এর মাধ্যমে করতে পারবেন না। পাশাপাশি ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম বিজনেস পেজ গুলোতে নিয়মিত পেজ বুস্ট না করা হয তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা আপনার পেজ রিচ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি আপনার পেইজ বা আইডি হ্যাক হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সেজন্য সবচাইতে ভালো উপায় হল যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইট খুলে এর মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করেন। আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় এবং পছন্দ মত ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য সাহায্য করতে পারে Thezoomit. আমাদের আছে সুদক্ষ এবং অভিজ্ঞতা টিম যারা অনেক ই কমার্স ওয়েবসাইট ডেভলপ করেছে এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টে আমাদের আছে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা।

 

 

ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করার সুবিধা

ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা

২০২০ সালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন লকডাউন ঘোষণা করা হল তখন প্রায় সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হলো। কিন্তু ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে তা হলো না বরং এই করোনাভাইরাস এর মধ্যে ব্যবসা আরো বৃদ্ধি পেল।

এর মূল কারণ হচ্ছে ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আপনার কোন বিশেষ জায়গা প্রয়োজন হয় না, আপনি আপনার নিজের ঘরে বসে থেকে আপনি আপনার ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে পারবেন। শুধু তাই নয় ঘরে বসে থেকে সম্পূর্ণ একটি ই-কমার্স এর অফিস পরিচালনা করা যায়। ই-কমার্স ব্যবসার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হল এই ঘরে বসে থেকে কাজ করার সুবিধা।

অল্প মূলধন দিয়ে ব্যবসা করা

যে কোন ব্যবসা করার জন্য মূলধন প্রয়োজন। ব্যবসা করার জন্য সাধারণত অফিস, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদির খরচ বহন করতে হয় কিন্তু ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে আপনি যদি প্রথম দিকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি নাও করেন তাও শুধু আপনি ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

অর্থাৎ সহজভাবে বলা যায় যে ব্যবসায় বিক্রি করার জন্য যদি আপনার পণ্যটি থাকে তাহলেই আপনি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অল্প মূলধন দিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে ই-কমার্স ব্যবসার অন্যতম সুবিধাজনক দিক।

ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ

অন্যান্য ব্যবসার থেকে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ। যেমন ধরুন কেউ যদি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এর মাধ্যমে ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে চায় তবে তার শুধু ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম পরিচালনা করার জন্য যে জ্ঞান থাকা দরকার তা থাকলেই ই কমার্স ব্যবসা করতে পারবে।

আবার কেউ যদি নিজের ওয়েবসাইট খুলে ব্যবসা করতে চাই তবে সেখানেও ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ। এখানে ওয়েবসাইট খুলে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কিছু জিনিস যেমন পণ্যের ছবি আপলোড দেওয়া, পণ্য সম্পর্কে বিবরণ দেওয়া ইত্যাদি অত্যন্ত সহজ কাজ। এগুলো যদি কেউ নাও জানে তবে সে শিখে নিতে পারবে। ব্যবসা পরিচালনা করার এই ব্যবস্থা ই-কমার্স ব্যবসার অন্যতম সুবিধাজনক দিক।

 

খুব অল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা

ছোটখাটো ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মালিক নিজেই তার ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কাজ যেমন পণ্যের ছবি আপলোড দেওয়া, পণ্যের বিবরণ দেওয়া, গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়া এসব কাজ করতে পারে। কিন্তু ই-কমার্স ওয়েবসাইট যদি একটু বড় হয় তবে কয়েকজন কর্মী লাগে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য।

তবে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হলেও কেউ যদি প্রথাগত ব্যবসা পরিচালনা করত তবে যে পরিমাণ কর্মী লাগত তার ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই একই পরিমাণ ব্যবসার ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ কর্মী দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে। খুব অল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হল ই কমার্স ব্যবসার আরেকটি সুবিধাজনক দিক।

একই সাথে একাধিক ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা

প্রথাগত ব্যবসার কথা যদি বলতে হয় তবে একই সাথে একাধিক প্রথাগত ব্যবসা করা খুবই কঠিন। যেমন কারো যদি একটি দোকান থাকে এবং সে দুই থেকে তিনটি দোকান চালাতে চায় তবে তার জন্য অনেক পরিশ্রমের দরকার হয় কিন্তু কেউ একই সাথে একাধিক ই-কমার্স ব্যবসা খুব সহজে চালাতে পারে। এর কারণ যেটা আগে বলা হয়েছে যে ই কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা খুবই সহজ।  একই সাথে একাধিক ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা ই কমার্স এর আরেকটি সুবিধাজনক দিক।

 


ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

 

1. ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

2. ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

3. ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধরণ

4. অনলাইন মার্কেটিং

5. অফলাইন মার্কেটিং

6. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

7. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

8. কন্টেন্ট মার্কেটিং

9. সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

10.                পে-পার ক্লিক এডভার্টাইজিং

11.                অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

12.                ইমেইল মার্কেটিং

13.                Enhanced অফলাইন মার্কেটিং

14.                রেডিও মার্কেটিং

15.                টেলিভিশন মার্কেটিং

16.                ফোন মার্কেটিং

17.                ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার

18.                ডিজিটাল মার্কেটিং করে আয়

19.                ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে- ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কনজিউমারের কাছে পন্যের জানান দেওয়ার একটি পন্থা। মার্কেটিং এর কাজ মূলত মানুষের নিকট পন্য সঠিক সময়ে পৌঁছে দেয়া বা জানান দেয়া। বর্তমানে মানুষ বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে থাকে অনলাইনে। করোনাকালীন সময়ে তার স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন। এই বিশাল পরিমানের অডিয়েন্সের সামনে আপনার পন্য সম্পর্কে তুলে ধরার সহজ এবং কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং।

 

যদি আরও সহজে বলতে চাই, ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর একটি দিক যেটি ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস, সোসাল মিডিয়া, ইন্টারনেট এর সাথে সম্পৃক্ত।

 

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

যেকোন ব্যাবসাকে প্রচার এবং প্রসারের জন্য মার্কেটিং প্রয়োজন। দিন বদলেছে, মার্কেটিং এর ধরন বদলেছে। মার্কেটিং এখন ডিজিটালাইজ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কিংবা পন্য, যেটাই হোক মার্কেটিং ছাড়া গতি নেই।

ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বেশি স্পেসিফিক এবং যেসকল মানুষ শুধু ঐ নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট চান তাদের কাছেই মার্কেটিং করা যায়। যা প্রচলিত মার্কেটে সম্ভব নয়। 

প্রচলিত পদ্ধতিতে কোন প্রোডাক্টের মার্কেটিং করতে গেলে ব্যবহার করতে হয় প্রিন্ট এড, ফোন কমুউনিকেশন, ফিজিক্যাল মার্কেটিং। তাও খুব সহজে মানুষের নিকট রিচ করা যায় না যতটা যায় অনলাইনের মাধ্যম। প্রচলিত মার্কেটিং এর আরো বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে এটাতে প্রচুর পরিমানে টাকা ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং যেন একটি ত্রাতা হয়ে আসলো। খুব সহজে যদি কেউ তার টার্গেটেড অডিয়েন্সের নিকট পৌছাতে চান, ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিকল্প নেই তাহলে।

ডিজিটার মিডিয়া ব্যবহার করে অডিয়েন্সের ইন্টারেস্ট অনুযায়ী এড শো করানো যায়, যেটি ফিজিক্যাল মার্কেটিং এ করা অসম্ভবপর। আর যদিও করা যায় তাও অত্যাধিক ব্যয় বহুল।

ফিজিক্যাল মার্কেটিং করতে গেলে দেখা যায় একসাথে অনেক গুলো মানুষের সামনে কোন একটা এড শো করানো হচ্ছে বা প্রিন্টিং এড দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, উপস্থিত সকলে কিন্তু এই প্রোডাক্টটি সম্পর্কে সমান আগ্রহ দেখায় না। যেটি আশাও করা যায় না। এক্ষেত্রে হয় কি, যাদের প্রোডাকটি সম্পর্কে কৌতুহল রয়েছে তারাই মুলত প্রোডাক্টিভ মার্কেটিং এর আওতায় পড়েন। বাদ বাকি যারা আছেন তাদের কাছ থেকে কোম্পানি আশা করার তেমন কিছু থাকে না। আগ্রহ প্রকাশ করেন না এমন লোকের সংখ্যা যত বেশি হবে তত বেশি মার্কেটিং ব্যার্থ হবে।

কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং এ এটির কোন সুযোগ নেই। যদি আপনি ভালো কোন এজেন্সির নিকট হতে মার্কেটিং করাতে পারেন তাহলে আপনার প্রায় প্রতিটি এড টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে রিচ করবে। মানে এড গুলো স্পেসিফিক তাদের কাছে শো করবে যারা মুলত আগ্রহ দেখান উক্ত পন্যের সম্পর্কে। এটি হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।

 

 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধরণ

ডিজিটাল মার্কেটিং কে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।  অনলাইন মার্কেটিং এবং অফলাইন মার্কেটিং।

 

অনলাইন মার্কেটিং

·       সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

·       সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

·       কন্টেন্ট মার্কেটিং

·       সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

·       পে-পার-ক্লিক এডভার্টাইজিং

·       এফিলিয়েট মার্কেটিং

·       ই-মেইল মার্কেটিং

অফলাইন মার্কেটিং

·       Enhanced অফলাইন মার্কেটিং (LED Tv add)

·       রেডিও মার্কেটিং

·       টেলিভিশন মার্কেটিং

·       ফোন মার্কেটিং

এ পর্যায়ে আমরা উপরে উল্লেখিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণ নিবো।  শুরুতে জানা যাক  অনলাইন মার্কেটিং এর ক্যাটাগরি সম্পর্কে।

 

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক জেনারেট করতে পারে সার্চ ইঞ্জিন। এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটিং স্ট্রাটেজি হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এক কথায় যদি এসইও সম্পর্কে বলি তাহলে কথা টা এমন দাঁড়ায় যে – ওয়েবসাইটকে এমন ভাবে সাজানো, যার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন গুলো জানতে পারে আপনার কন্টেন্টে কি রয়েছে এবং যারা সার্চ করছেন তাদের কি-ওয়ার্ড এর সাথে ম্যাচ করে সাইট কে অপটিমাইজ করাই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।

 

 

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং কে সংক্ষেপে বলা হয় সার্চ মার্কেটিং। সার্চ মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি প্রসেসের নাম যার মাধ্যমে ট্র্যাফিক গেইন করা যায় পেইড এবং আন-পেইড উভয় মাধ্যমে। অর্থাৎ গুগলে যখন সার্চ করি তখন দুই ধরনের রেজাল্ট আসে। যেগুলো পেইড সেগুলো ছোট্ট করে (ad) লেখাটা লেখা থাকে। আর যেগুলো আনপেইড সেটি এসইও এর আওতায় পড়ে।

 

কন্টেন্ট মার্কেটিং

কন্টেন্ট মার্কেটিং বলতে অনেকেই মনে করে থাকেন ব্লগ পোস্টকে, তবে ব্যাপারটি পুরোপুরি এমন নয়। গল্প বলার মাধ্যমে অনেকে অনেক ধরনের প্রোডাক্টের কথা আমাদের সামনে তুলে আনেন। স্টোরিটেলিং এর মাধ্যমে প্রচার করাটাই মূলত কন্টেন্ট মার্কেটিং। এসব নিয়ে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হবে আগামী পোস্ট গুলোতে। তবে এর আগে আরেকটু মস্তিষ্কের খোরাক দিয়ে যাই, সেটা হচ্ছে কন্টেন্ট মার্কেটিং প্রথম শুরু হয়েছে ১৮৮৫ সালে (The Furrow) নামের একটি ম্যাগাজিন এর মধ্য দিয়ে।

 

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে জনপ্রিয় দিক হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। কারণ বর্তমান সময়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন সোস্যাল মিডিয়াতে। সেলারদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি। খুব কম খরচে টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌছানোর সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

 

পে-পার ক্লিক এডভার্টাইজিং

মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র হচ্ছে পে-পার-ক্লিক এডভার্টাইজিং। বিশেষ করে যারা ওয়েবসাইটে ট্রাফিক জেনারেট করতে মার্কেটিং করেন তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রতি ক্লিক অনুযায়ী আপনাকে টাকা গুনতে হবে এড এর জন্য। এছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিং যারা করেন তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো সুবিধা করতে পারবেন। তবে এটি একটি ব্যয় বহুল প্রক্রিয়া।

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অন্যকে রেফার করার মাধ্যমে যে মার্কেটিং পদ্ধতি গড়ে উঠেছে সেটিই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং । এখানে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকেন তাদের নিজেদের কোন প্রোডাক্ট থাকে না। ব্যাকলিংক এর মাধ্যমে ট্রাফিক জেনারেট করে দেয়ার এই মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিটির ইভল্ভ হয়েছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এবং কার্যকরী মাধ্যম গুলোর একটি।

 

ইমেইল মার্কেটিং

সহজ কথায় ই-মেইলের মাধ্যমে মার্কেটিং করার পদ্ধতিই হচ্ছে ই-মেইল মার্কেটিং। আমরা যারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলি তখন তারা আমাদের ই-মেইল কালেক্ট করে রাখে। পরবর্তীতে তারা আমাদেরকে সেই সকল ইমেইলের মধ্য দিয়ে আমাদের কাছে সহজে রিচ করতে পারে। যদিও বাংলা দেশে ই-মেইল চেক করার প্রবণতা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম, এখান কার কনসেপ্ট দিয়ে আপনি আপনি ই-মেইল মার্কেটিং এর দুনিয়া সম্পর্কে ধারনা করতে পারবেন না।

 

যদি আরো সহজে বলি – ধরুন প্রত্যেকদিন আপনি যেমন মেসেঞ্জারের মেসেজ চেক করেন সেই ভাবে যদি ই-মেইল চেক করতেন আর মার্কেটাররা যদি তাদের পন্যের প্রচারের জন্য আপনাকে ইনবক্স করে কত সহযে তারা তাদের কাস্টমারের কাছে সহজে রিচ করতে পারে। অনেকে ধারণা করে থাকেন ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যম টা সবচেয়ে বেশি কার্যকর পদ্ধতি।

 

অনলাইন মার্কেটিং সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারণা সম্ভবত হয়েছে। এবার আমরা অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আরো কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

 

Enhanced অফলাইন মার্কেটিং

সহজে বলি যদি- রাস্তার পাশে বিলবোর্ডে এনিমেটেড যে এড গুলো রান করে সেগুলোই মূলত Enhanced অফলাইন মার্কেটিং। সবচেয়ে ব্যয় বহুর একটি মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির মধ্যে একটি। ট্রাফিক জ্যাম সমৃদ্ধ স্থানে যদি এই টাইপের এড বসানো যায়, বিশাল পরিমান একটা অডিয়েন্সের কাছে রিচ করতে পারে খুব সহজে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক পন্য সেলাররা এটি ব্যাবহার করে থাকেন। 

 

রেডিও মার্কেটিং

রেডিওর ইতিহাস অনেক পুরোনো প্রায় ১০০ বছর হতে চললো যখন রেডিওতে সরাসরি লাইভ টেলিকাস্ট হয়েছে। আমাকে তেড়ে মারতে আসার আগে ব্যাখা করছি কেন আমি রেডিও মার্কেটিংকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে টেনে এনেছি।

আপনাদের মনে ইতিমধ্যে ধারনা জন্ম নিয়েছে যে রেডিও বোধ হয় মৃত একটি ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু এমন যদি ধারণা করে থাকেন তাহলে আপনাকে চমকানোর মত কিছু তথ্য আছে আমার কাছে।

রেডিও প্রায় ৮৫% মার্কিনিদের কাছে এখনো পৌছায়। প্রায় ২ ঘন্টা করে অন এভারেজে শুনে থাকে তারা। বিশ্বের রেডিও এডভার্টাইজিং এর ৪০% খরচ হয় শুধু আমেরিকাতে। এছাড়াও মোট জনসংখ্যার অর্ধেক আমেরিকান নাগরিক কমপক্ষে মাসে একদিন হলেও রেডিও শুনে।

তবে রেডিওর যায়গাটা দিন দিন দখলে নিয়ে নিচ্ছে  পডকাস্ট। এই সম্পর্কিত আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করবো।

 

টেলিভিশন মার্কেটিং

টার্গেটেড অডিয়েন্স রিচের ব্যাপারে টেলিভিশন মার্কেটিং অনেক পিছিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যান্য দিক এর তুলনায়। এটা অস্বীকার করার জো নেই। কারন টেলিভিশনে যে এড শো করানো হয় তা আসলে সবাইকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয়। কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যন্য সেক্টর গুলোতে মানুষের ইন্টারেস্ট এবং সার্ফিং এর ধরণ অনুযায়ী এড শো করা হয়। সে ক্ষেত্রে টিভি মার্কেটিং এ কিছুটা ভাটা নিশ্চই পড়েছে। কিন্তু তার পরেও মার্কেটিং এর হিউজ একটা শেয়ার ধরে ফেলেছে তারা।

 

ফোন মার্কেটিং

আমরা যারা বাংলাদেশে আছি, থাকছি তারা মোবাইল অপারেটরদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে যাই। তাদের এই প্যাকেজ এই টিউন ঐ প্রোডাক্ট ঐ কন্সার্ট এসবের সেসকল মেসেজ পাঠিয়ে অডিয়েন্সের কাছে রিচ করা হয় তাকেই মুলত সংক্ষেপে ফোন মার্কেটিং বলা যায়। এছাড়া অনেক সময় দেখবেন কল করে বিভিন্ন কিছু চটকদার কথা শুনায়। তাদের এসব কার্যক্রমও ফোন মার্কেটিং এর আওতাভুক্ত। এছাড়া বিভিন্ন কুপন গিভওয়ে দিয়েও অনেক কম্পানি মার্কেটিং কার্যক্রম চালায়।